মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

১৯৮২ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেঃ জেঃ (অবঃ) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রশাসনকে জনগণের দোর গোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে থানা গুলোকে উপজেলা এবং মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করেন। এ পদক্ষেপের কারণে আলীকদম অন্যান্য থানার ন্যায় উপজেলায় উন্নীত হয়।

 

উপজেলা পরিষদ গ্রামীণ স্থাণীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যম পর্যায়ের স্তর। উপজেলা পরিষদের উপরে জেলা পরিষদ নিচে ইউনিয়ন পরিষদ এবং সমান্তরালে কোথাও কোথাও পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পূর্বতন থানা বা নবগঠিত উপজেলার যাত্রা ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। তা‘ছাড়া আইনী কাঠামো, সাংগঠনিক কাঠামো, আন্তঃ প্রতিষ্ঠান মিথক্রিয়া, সেবাদান পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অন্য সকল প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু স্বতন্ত্র। তাই উপজেলা পরিষদের এ নবযাত্রায় এর আইনগত কাঠামো, অবস্থান, আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং তার সাথে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক  ও প্রশাসনিক কাঠামো, সর্বোপরি আইন ও প্রশাসনের মিথস্ক্রিয়ার সার্বিক অবস্থার উপর একটি সামদগ্রিক ধারণা থাকা দরকার।

 

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন বা আইনের উৎস ও নির্দেশক। সংবিধানের নির্দেশনা (১১, ৫৯ ও ৬০) অনুসারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রশাসনিক কাঠামো  হিসাবে উপজেলায় নির্বাচিত  স্থাণীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা  রয়েছে। তবে কীভাবে বা কোন আদলে তা গঠিত ও কার্যকর হবে সে ব্যাপরে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে ২০০৯ সনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও ১৯৯৮ সনে পাশকৃত স্থানীয় সরকার (উপজেলা) পরিষদ আইন ২০০৯ সনে নতুনভাবে জাতীয়সংসদ কর্তৃক পুনঃগৃহিত এবং ২০১১ সনে সংশোধিত। তাই উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করার আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবিক পক্ষে ২০০৯ সনে উপজেলা পরিষদের নবতর যাত্রা শুরু হয়।

 

১৯৮২ সালে ২৩ শে ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার(থানাপরিষদ এবং থানা প্রশা্সন পুনগঠন) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশের আওতায় প্রথমে উন্নীত থানা পরিষদ গঠন করা হয় এবং থানা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনিক পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। অতঃপর সংশেোধনী র মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুর্নগঠন) অধ্যাদেশ ১৯৮৩ জারি করে।  উন্নীত থানা পরিষদকে উপজেলা পরিষদ রুপ দেয়া হয় এবং থানা প্রশাসনকে উপজেলা প্রশাসন নামে অভিহিত করা হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী একজন নির্বাচিত  চেয়ারম্যান, প্রতিনিধি সদস্য, অফিসিয়াল সদস্য এবং মনোনীত সদস্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অফিসিয়াল সদস্য ছাড়া অন্যান্য সদস্যগণের ভোটাধিকার ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের দায়িত্ব পালনসহ সকল বিভাগের কাজের সম্বনয় সাধন করতেন।

 

১৯৮২ সালে সরকারী রেজুলেশন অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে সরকারী কার্যাবলীকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দু-ভাগে বিভক্ত করা হয়। এ রেজুলেশন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত বিষয়সমুহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকার সংরক্ষিত বিষয়াদি এবং জাতীয়  ও  আঞ্চলিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ন উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করতেন। হস্তান্তরিত বিষয়সমুহ ছিল কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সেচের ব্যবস্থা, প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, পল্লী পূর্তকর্মসুচী বাস্তবায়ন, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পশুপালন ও মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ। সংরক্ষি কাজের তালিকা  অনুযায়ী সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার বিচার, রাজস্ব প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজণীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ, বৃহৎ শিল্প, খনন ও খনিজ উন্নয়ন ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করতেন।

 

পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা উপজেলা পরিষদকে দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা পরিষদকে সরকার কর্তৃক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রতি আথিৃক বছর অনুদান দেওয়া হত। উপজেলা পরিষদকে করারোপ ও আদায়ের ক্ষমতা দেয়া হয়। এর নিজস্ব আয়ের উৎস্যসমুহ ছিল, যেমন - জলমহাল, হাটবাজার, ফেরিঘাট, ব্যবসা বানিজ্য  ও বৃত্তির উপর কর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এ পদ্ধতির আওতায় হস্তান্তরিত বিষয়সমুহের কর্মকর্তাদেরকে উপজেলা পরিষদে প্রেষণে ন্যস্ত করা হয় এবং বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত বিষযাদির কর্মকর্তাদেরকে (মুনসেফ  এবং ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া) প্রয়োজনবোধে উপজেলা পরিষদের নিকট জবাবদিহি  করতে হতো। এছাড়া ১৯৮৮ এর পূর্ব পর্য়ন্ত ইউনিয়ন পরিষদের কার্য পরিচালনায় সহযোগিতা, বাজেট ও কর ধার্য প্রস্তাব অনুমোদন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উপজেলা পরিষদের দায়িত্বের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনগঠন)(রহিতকরন) অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের বিলুপ্তি ঘটে।

 

উপজেলা পরিষদ বিলুপ্তির পর বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে সরকার নির্বাহী আদেশে প্রতিটি থানায় থানা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি  গঠন করে। এ কমিটি সংশ্লিষ্ট থানায় অন্তর্ভূক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত হয়। নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন গণের মধ্য থেকে প্রতি মাসে একজন থানা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কমিটি উপদেষ্টা করা হয়।  কমিটির মূল কার্য পরিধির মধ্যে ছিল: (ক) উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রকল্প বাছাই, পর্যালোচনা ও সমন্বয় সাধন; (খ) ইউনিয়ন পরিষদকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উপদেশ / পরামর্শ দেয়া, (গ) আন্তঃ ইউনিয়ন ও আন্তঃ খাত সমস্যা নিরশন, (ঘ) উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করে  সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের নিকট প্রেরণ ইত্যাদি।

 

উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রবর্তন করার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদে উপজেলা পরিষদ আইন পাশ করা হয়। কিন্তু উপজেলা পরিষদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উপজেলা পরিষদ আইন’ ১৯৯৮ বাতিলপূর্বক স্থানীয় সরকার(উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ, ২০০৮ জারি করে। ক্ষমতা গ্রহনের সাথে সাথে বর্তমান মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে সমগ্র দেশ ব্যাপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। জাতীয় সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক জারীকৃত স্থানীয় সরকার(উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ, ২০০৮ নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ও অনুমোদন না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে বর্তমান জাতীয় সংসদ কর্তৃক উপজেলা পরিষদ (রহিত অধ্যাদেশ, পুন:প্রচলন ও সংশোধনী) আইন ২০০৯ প্রণয়নের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮(১৯৯৮ সনের ২৪নং আইন) পুন:প্রচলন করা হয়। বর্তমানে এ আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে।