মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

হোটেল-আবাসন

                                               

                                               হোটেল-আবাসন

 

                                 ০১।  জিয়া বোর্ডিং,আলীকদম বাজার ও 

                                  ০২।জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজ,পান বাজার।

 

আলীকদম উপজেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক বৈশিষ্টপূর্ণ বেশ কটি নান্দনিক স্থান । এছাড়ছা ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ স্থানও রয়েছে এখানে । কিন্তু যোগাযোগ সুবিধা না থাকায় এ উপজেলায় এ যাবত কোন পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেনি।

আলীকদম উপজেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

 

                                           

ক্রঃ নং

পয©টন স্থানের নাম

বর্ণনা

০১.

আলীকদম-থানচি সড়ক

আলীকদম-থানচি সড়ক দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ সড়কপথ। ১৪ জুলাই, ২০১৫ খ্রিঃ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি উদ্বোধন করেন। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি এবং ১৭ ইসিবি এ সড়কটি নির্মাণ করেছে। এ সড়কের দুই পাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দয© আর উঁচু-নিচু পাহাড় দেশী-বিদেশী পয©টককে আকৃষ্ট করেছে।

০২.

আলী সুড়ঙ্গ

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে ০৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে ‘আলীর পাহাড়’ অবস্থিত। এ পাহাড়েই রহস্যজনক ০৪টি সুড়ঙ্গের অবস্থান। শুষ্ক মৌসুমে অনেক দেশী-বিদেশী পয©টক আলী সুড়ঙ্গ দর্শনে আসেন। ২০১২ সালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুড়ঙ্গ এলাকায় ০১টি গোলঘর ও যাতায়াতের রাস্তার নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক এ স্থানটি অধিকতর সংস্কার প্রয়োজন।

০৩.

ম্যারাইংতং পাহাড়

আলীকদম উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-লামা উপজেলার সীমান্তবর্তী মিরিঞ্জা পাহাড়ে ম্যারাইংতং নামের পাহাড় চূড়ার অবস্থান। এর উচ্চ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফুট। পাহাড় চূড়ায় ১৯৯২ সালে পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের উদ্যোগে এবং স্থানীয় পুণ্যার্থীদের সহযোগিতায় বৌদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠা, জাদী নির্মাণ করা হয়। স্থাপিত বৌদ্ধ জাদীকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ম্যারাইংতং মহা বৌদ্ধ মেলা ও বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উৎসবে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ থেকে অসংখ্য বৌদ্ধ ভিক্ষু, পুণ্যার্থী ও পয©টকদের সমাগম ঘটে।

০৪.

ডিম পাহাড়

আলীকদম-থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার পয়েন্টে এ সড়কের পাশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ ফুট উঁচু পাহাড় অবস্থিত। ডিম্বাকৃতির ন্যায়্ এ পাহাড়কে ‘ডিম পাহাড়’ নামে অভিহিত করা হয়। অধিকাংশ সময় মেঘে ঢাকা ও আকাশছোঁয়া এ পাহাড় দেশী-বিদেশী পয©টকদের আকৃষ্ট করেছে।

০৫.

রূপমুহুরী ঝর্ণা

আলীকদম সদর হতে প্রায় ৫০ কিমি দূরে পোয়ামুহুরী নামক স্থানে এ ঝর্ণাটির অবস্থান ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আলি কদম এসে বুঝতে পারলাম বাংলাদেশে অনেক সৌন্দর্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে টুকরো টুকরো হীরের মতো।

যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিলো, আমি যেন কোন নিপুন শিল্পীর আঁকা শ্রেষ্ঠ কোন ছবিতে প্রবেশ করেছি। বরং, বাস্তব, ছবির চে’ সুন্দর – অন্তত ৫ গুন।

বাইক চালাতে চালাতে আমাকে সাবধান থাকতে হচ্ছিলো – কারন আমার মাথা প্রায় ই এদিক ওদিক ঘুরে যাচ্ছিলো – কাছে, দুরের দৃশ্যাবলী দেখার জন্য।

পাহাড়ের ভীষণ উঁচু নিচু সর্পিল পথে চলে গেছে আলি কদমের পথ। একবার কেউ এলে তার নেশা লেগে যাবে। আমি একরাত ছিলাম এখানে। তবে থাকার প্ল্যান ছিলো না। কিন্তু কিং সলোমনের গুপ্ত ধনের ভান্ডারে ঢুকে পড়ার মত আমি যেন কোণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিপুল এক ভান্ডার এ ঢুকে পড়েছিলাম। ফিরি কি করে।

DSC02718 copy

ঐশর্জ দেখে মাথা ঘুরতে লাগলো বন বন। তাই থেকে গেলাম।

দেখে দিল ঠান্ডা হোক। কিন্তু হায়, পাহড়ী সৌন্দর্যের আলপনা তৃষ্ণা যেন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রথম আমার মনে হলো, এখানে থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না।

গতকাল ১০ টার দিকে বেরিয়ে পড়েছিলাম মোটরবাইক নিয়ে। শিরায় শিরায় নাচন। নতুন কোন এক জায়গায় যাচ্ছি। দুরের বাইক জার্নি বরাবর ই আমার খুব ভালো লাগে। আর বান্দর বন আমার ফেবারিট।

আলি কদম যদিও বান্দর বন এর উপজেলা, তবে যাওয়ার রুট অন্য দিক দিয়ে। কক্স বাজার এর আগে চকরিয়া ফেলে হাশরদি থেকে বায়ে টার্ন নিয়ে চলে যেতে হবে পাহাড়ি রাস্তা ধরে প্রায় ৬০ কিলো। ২ টা পাহাড় পাড়ি দিতে হবে।

সারাটা পথ ই আপনাকে বিমুগ্ধ করে রাখবে। অসাধারণ। আমার নীলগিরি যাবার রাস্তাটা মনে পড়ে গেলো।

DSC02720 copy

উচুতে উঠতে লাগলে আঁকা বাকা পথ বেয়ে – পাহাড়ের ২ পাশেই খাদ মাঝে মাঝে। আপনি যদি চান্দের গাড়িতে যান – দোয়া দুরুদ যা আছে সব অজান্তেই পড়ে ফেলতে হবে আপনাকে।

যত যেতে লাগলাম – দুর দুরান্তের দ্রশ্য মন কাড়তে লাগলো। ২ পাশেই সারি সারি গাছের ছায়া – আর লম্বা পিচ ঢালা পথ। বাইকার দের জন্য আমি বলব হেভেন। এমন করে পৌঁছে গেলাম তখন বেলা প্রায় ২ টা।

যাবার পথে মাঝে একটা পথ লামাতে চলে গেছে, আর একটা পথ থাঞ্চি।  থাঞ্ছি যাওয়ার পথ টা  অসাধারণ সুন্দর। বাইক নিয়ে গেলে – এখানে যাওয়া মাস্ট।

যাই হোক, পৌছে গাইড খুজতে লাগলাম। পেয়েও গেলাম এক বিশ্বস্ত একজনকে – মিনহাজ।

তাকে নিয়ে আগে কিছু খেয়ে নিলাম। এবার রওনা দিলাম আলি সুড়ঙ্গে। প্রথমে পান বাজার দিয়ে কিছু টা পথ গিয়ে ডানে কাচা রাস্তা দিয়ে টার্ন নিলাম। খুব সরু পাথুরে পথ ধরে চলে একটা বাড়ির উঠনো থেকে বাইক রাখলাম।

বাড়ির লোক মিনহাজ, মানে আমার গাইডের পরিচিত। যেহেতু কিছুটা পথ পানি দিয়ে যেতে হবে, জুতো খুলে ফেললাম।

DSC02743 copy

প্রথমে একটা ছড়া পার হয়ে পাহড়ী জঙ্গলে ট্র্যাকিং করে এগুতে থাকলাম। খুব ই ভালো লাগলো

DSC02778 copy

vlcsnap-2013-11-21-14h10m37s96 copy

এই ট্র্যাকিং টা। মিনিট ১৫ হেটে পৌঁছে গেলাম প্রথম সুড়ঙ্গের নিচে।  বিশাল এক লোহার মই বেয়ে উঠে গেলাম। সুড়ঙ্গের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকার। টর্চ নিয়ে ঢুকে গেলাম। ভীষণ থ্রিলিং একটা ব্যাপার।

DSC02758 copy

আলী কদম সুড়ঙ্গ

DSC02766 copy

আলী কদম প্রথম সুড়ঙ্গে যাবার পথ

 

ছবি


সংযুক্তি

দর্শনীয় স্থান দর্শনীয় স্থান



Share with :

Facebook Twitter